Wednesday, 6 February 2013

http://youtu.be/38Dh-GA7WpI
http://youtu.be/-Q_xwelqi_Q
one of my favorite drama ,,...... 

http://youtu.be/m2lYjbXjiQ8

যেই মাকে জবাই করলো কসাইটা, যেই মায়ের সামনে ধর্ষন করলো তাঁর মেয়েটাকে, যেই ছেলেটিকে দু'দিন ধরে গাছের সাথে ঝুলিয়ে প্রথমে হাত কেটে নিলো, তারপর পাঁচটা গুলি করলো, যেই বসতির পর বসতি নিশ্চিহ্ন করে দিলো কসাইটা, তার ফাঁসীর দাবীতে যাবেন না শাহবাগ? যদি না যান তবে একবার নিজের মায়ের মুখ মনে করবেন কিংবা বোনের কিংবা বাবার কিংবা ভাইয়ের...যে কেউই হতে পারত এই কসাইয়ের ভিকটিম। আজ সুখে থেকে তা ভুলে যাবেন না। যান শাহবাগে যান বন্ধু আমার...শাহবাগ ডাকে আপনাকে...যেমন মা ডাকে সন্তানদের.........


  • ১৯৮৪/৮৫ সাল থেকে স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে ছিলাম। একদিনের ঘটনা। ৫৪ ঘন্টার হরতালের ডাক দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা বুয়েটের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আন্দোলনের নেতৃত্ব কাঁধে তুলে নিলাম। আমাদের বিশাল মিছিল সারা ঢাকা প্রদক্ষিণ করছে। আমাদের মিছিল পলাশী থেকে আজিমপুরের দিকে অগ্রসর হলো। আগের দিন ওখানকার আর্মি রিক্রুটিং সেন্টারে হামলা হয়েছিল বলে পুলিশ বিডিআর বন্দুক তাক করে ছিল। যেই না অগ্রসর হওয়া, অমনি গুলি। আমাদের মিছিলে পাশের মিছিলম্যান গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢলে পড়ল রাজপথে। 
  • নব্বইয়ের গণআন্দোলনে অংশ নিয়েছি প্রত্যক্ষভাবে। নব্বই সালের আন্দোলনে আমরা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যর গোপন বুলেটিন বের করেছিলাম। তখন সব পত্রিকা বন্ধ। কারফিউ। জরুরি অবস্থা। আমরা-- আমিনুর রশীদ, আমানত দৌলা, কুদ্দুস আফ্রাদ, দীপু হাসান, আমি, আরও অনেকে-- মোজাম্মেল বাবু-- আমরা গোপনে বের করছি সর্ব দলীয় ছাত্র ঐক্যের বুলেটিন। তারও আগে পূর্বাভাস পত্রিকায় শিশির ভট্টাচার্যর কার্টুন দিয়ে আমরা প্রচ্ছদ করলাম, দূর হ দুঃশাসন। আর বুলেটিনের হেডলাইন করেছিলাম আমি-- স্বৈরাচারের পতন, গণতন্ত্রের অভিষেক। ওই বুলেটিনে ডাক্তার মিলনের ওপরে মানবিক প্রতিবেদন লিখেছিলাম, গোপনে তার ফটো জোগাড় করে এনে। শুধু কি বুলেটিন, আমরা সবাই, তরুণ সাংবাদিকেরা, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা কারফিউ ভেঙে মিছিল করেছিলাম। 
  • কারফিউ একদিন তুলে নেওয়া হলো শুক্রবারের জুমার নামাজের জন্য। আমরা সবাই বায়তুল মোকাররমে গেলাম। যেই না নামাজ শেষ হলো, অমনি মিছিল। সেই মিছিলেও গুলি হয়েছিল। মনে আছে, পুরানা পল্টন লাইনে কানাগলিতে ঢুকছি, মোজাম্মেল বাবু চিৎকার করছেন, মিটুন ওইটা কানাগলি, আর জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু দিয়াশলাইয়ের কাঠি বের করে রাজ্জাককে বলছেন, এই যা, ওই খানে আগুন জ্বালা।
  • গণআদালতের দিন ২৬ মার্চ, ১৯৯২। সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ। আমরা সবাই নিজের নিজের মতো করে সোহরায়ার্দী উদ্যানের চারদিকের গলি উপগলি গাছগাছালির আড়ালে জড় হচ্ছি। হাজার হাজার লোক এসে গেল। পুলিশের বাধা ভেঙে সবাই হুড়মুড় করে ঢুকে পড়লাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। গণআদালত বসল। (অন্য অনেকের সঙ্গে সেই গণআদালতের একজন ছিলেন ড. আনিসুজ্জামান। তাদের বিরুদ্ধে তখনকার বিএনপি সরকার রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করেছিল। পরে বিচারপতি হাবিবুর রহমান সাহেবের তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাঁদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। ড. আনিসুজ্জামান এবারেও যুদ্ধাপরাধ বিচার আদালতে গিয়ে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছেন।)
  • গণআদালতে যোগ দিতে আমাদের কেউ বলে দেয়নি। আমরা নিজেরাই গিয়েছিলাম। কারণ আমরা ছিলাম তরুণ। 
  • গত বছর রামুর ঘটনার পরে প্রতিবাদ করতে শাহবাগে গেলাম। গিয়ে দেখি সৈয়দ আবুল মকসুদ আর শিশির ভট্টাচার্য। খুব অভিমান হলো। তরুণরা কই? চুলপাকা তরুণরাই কি বার বার রাস্তায় নামবে?
  • এবার যেদিন কাদের মোল্লার বিচারের রায় ঘোষিত হলো, সমস্ত জাতি প্রথম হতবাক। আমার তরুণ বন্ধুরা বলল, আমরা প্রতিবাদ করছি। বললাম, দুরো, তোমাদের প্রতিবাদ মানে তো শুধু স্টাটাস দেওয়া ফেসবুকে। ওরা বলল, না না, আমরা রাস্তায় নামছি। আমরা শাহবাগে সমবেত হওয়ার ডাক দিয়েছি। তখনও আমি ভেবেছিলাম এটা জনা কুড়ি ছেলের প্রতিবাদ হবে।
  • কিন্তু খুবই আশান্বিত হয়ে দেখছি, শাহবাগে হাজার হাজার তরুণ, আসছে যাচ্ছে, তার মানে সব মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ তরুণ একবার না একবার এখানে এসেছে।
  • আমার বুক থেকে একটা পাথর নেমে গেল। বাংলাদেশের তারুণ্য জাগ্রত আছে। তারা নিজেদের পথ নিজেরা করে নিচ্ছে।
  • তরুণেরা যখন প্রতিবাদ করে, তখনই বাংলাদেশ সুন্দর হয়ে ওঠে।
  • তারুণ্যের জয় হোক। 
  • জগত দেখুক, বাংলাদেশ মানবাধিকারের পক্ষে, যুদ্ধাপরাধের বিপক্ষে। মৌলবাদ আর সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই মুক্তিযুদ্ধ বিজয়ী বাংলাদেশে।
  • প্রতিবাদী তারুণ্য, তোমায় সালাম।
  • ২৬ মার্চ ২০১৩ জাহানারা ইমামের গণআদালতের ২১ বছর পূর্তিতে আমরা কি একটা মিলিয়ন ম্যান মার্চ করতে পারি? ঢাকায় ১০ লক্ষ লোকের একটা সমাবেশ?