Friday, 15 February 2013


রাজধানীর পল্লবীতে আহমেদ রাজীব হায়দার (৩৫) নামের এক ব্লগার খুন হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাত নয়টার দিকে পলাশনগরে নিজ বাড়ির দেয়ালের পাশ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশেই তাঁর ল্যাপটপটিও পড়ে ছিল।
পল্লবী থানার পুলিশ জানায়, রাজীবকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি স্থপতি ছিলেন। রাজীবের মামার অভিযোগ, জামায়াত-শিবির তাঁর ভাগনেকে খুন করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে রাতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মিছিল করেন।
পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, নিহত রাজীবের গালে গভীর কাটা দাগ রয়েছে। তিনি ব্লগার বলে শুনেছেন।
রাজীবের মামা খুররম হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, জুমার নামাজের পর রাজীবের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। রাজীব বলেছিল, বেলা চারটার মধ্যে তাকে শাহবাগ যেতে হবে, তাই তিনটার দিকেই সে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। রাত নয়টার দিকে লোকজনের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, রাজীবের লাশ পড়ে আছে। 
খুররম হায়দার বলেন, তিনি ফোন করে দেখেন রাজীবের মুঠোফোন তার পকেটেই আছে, পাশে ল্যাপটপও আছে। তার মুখে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবির তাঁর ভাগনেকে খুন করেছে। কারণ রাজীব তার ব্লগে জামায়াত-শিবিরবিরোধী লেখালেখি করেছে। শাহবাগ আন্দোলনেও সে সক্রিয় ছিল।
রাতে ওই এলাকার নিরাপত্তাকর্মী আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার সময় এলাকার রাস্তায় একটি মাত্র ফটক খোলা ছিল। ওই ফটক দিয়ে তিনি মুখ বাঁধা দুজন লোককে দ্রুত চলে যেতে দেখেছেন।
নিহতের ছোট ভাই নেওয়াজ মুর্তজা হায়দার বলেন, তাঁদের বাবার নাম নাজিম উদ্দিন। মা নার্গিস হায়দার গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা। দুই ভাইয়ের মধ্যে রাজীব বড়। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যবিদ্যায় পাস করে কিছু দিন একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। রাজীব বিবাহিত, তাঁর স্ত্রী থাকেন পুরান ঢাকায়। পলাশনগরের একতলা বাড়িতে তাঁরা দুই ভাই ও এক খালাতো ভাই থাকেন।
ব্লগার রাজীব খুন হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা জানান, রাজীবের সঙ্গে থাকা কোনো কিছু খোয়া যায়নি।
ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, নিহত রাজীব সামহ্যোয়ারইন ব্লগে ‘থাবা বাবা’ নামে নিয়মিত লিখতেন। এ ছাড়া ‘আমার ব্লগ’ নামের একটি ব্লগেও তিনি লিখতেন বলে জানা গেছে। শাহবাগের আন্দোলন নিয়েও তিনি ব্লগে সক্রিয় ছিলেন।
by protom alo