Wednesday, 10 July 2013



লক্ষ্মীপুর জেলার ইতিহাস লক্ষ্মীপুর জেলার ইতিহাস অতি প্রাচীন নয়। তেমনি এ জেলার সংস্কৃতি চর্চার ইতিহাসও অনেক পুরাতন নয়। কিন্তু জেলাবাসীর সংস্কৃতির গভীর ঐতিহ্য রয়েছে। সমুদ্র পথে আগত বিদেশী (তুর্কী মোগল, পাঠান, ফিরিঙ্গী) এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত বসতি সমূহ জারি-সারি কীর্তন, যাত্রা ও কবিগানের প্রচলন ছিল। গৃহস্ত বাড়ী সমুহে বয়াতিগান ও পুঁথি পাঠের আসর ছিল জম-জমাট। পরবর্তিকালে যোগহয় যাত্রাপালা ও নাটক। মূলতঃ লক্ষ্মীপুরে বৃটিশ আমলের ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দের মুন্সেফী আদালত/চৌকি বসার পর শহুরে জীবনধারার পত্তন ঘটে এবং সংস্কৃুতি চর্চার নতুন ধারার সূচনা হয়। এতে শিক্ষিত সমাজ তথা আদালত পাড়ার মুন্সেফ ও উকিলগণের প্রধানতম ভূমিকা ছিল। এ ক্ষেত্রে মুন্সেফ হিসেবে বরিশালের প্রবোধ রায় এবং কলকাতার মহিমা রঞ্জন মিত্রের নাম পাওয়া যায়। তাদের সাথে স্থানীয় জমিদার ও ব্যবসায়ীগণ সহযোগিতা করেন। এ সময়ও কৃষি সমাজে স্ব স্ব সংস্কৃতি চর্চার ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল। মুন্সেফ ও উকিলগণ নাগরিক জীবন বোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরে ১৮৮৭ খ্রিঃ ইংলিশ স্কুল, ১৮৯৯ খ্রিঃ বালিকা স্কুল, ১৯১৯ খ্রিঃ টাউন হল (ক্লাব), ১৮৭২ খ্রিঃ উকিল বার, ১৮৯৯ খ্রিঃ বাণী রঙ্গালয় মঞ্চ স্থাপন করেন এবং খেলাধুলার জন্য প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা করেন। নিজেদের বাসা-বাড়ীতে সংগীত চর্চা, মন্দিরে কীর্তন, টাউন হল ও বানী রঙ্গালয়ে সংগীত, নৃত্য ও নাটক চর্চার ক্ষেত্র সৃষ্টি করেন। সমসাময়িক কালে দালালবাজারে জমিদারগণের আগ্রহে ঐতিহাসিক ঝুলন মেলা বসতো। এ মেলায় কলকাতা থেকে রকমারী পণ্যের দোকানের পাশাপাশি সার্কাস, নাগরদোলা, পুতুল নাচ ও যাত্রাদল আসতো। জমিদার বাড়ীতে ছিল নৃত্যগীতের আসর। তারপরও প্রজা সাধারণের জন্য প্রতিবছর এ মেলা বসতো। উকিলদের উদ্যোগে ১৯২৬ খ্রি: জুন মাসে বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম এসেছিলেন লক্ষ্মীপুর হাই স্কুল প্রাঙ্গনে। কবি দরাজ কন্ঠে সংগীত পরিবেশন করেন: জাগরে চাষী ভারত বাসী, শিকল পরা ছল, দুর্গম গিরি কান্তার মরু ইত্যাদি। কবিকে সংবর্ধনার উপহার হিসাবে একখানা রূপার থালা ও রূপার বাটি উপহার দেয়া হয়। পরে কবি লক্ষ্মীপুর টাউন হলে যাএিযাপন করেন। ১৯৪১ খ্রিঃ শাখারীপাড়ার ডাঃ রমেশ চন্দ্র কর রক্ষাকালী অপেরা দল প্রতিষ্ঠা করেন। এদরে অভিনীত যাত্রাগুলোর বেশীর ভাগই ছিল ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় পালা। এ সময়ই প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মুসলিম ড্রামাটিক ক্লাব’ যারা প্রতি সপ্তাহে একটি করে নাটক মঞ্চস্থ করতে থাকেন। তখনকার যুগে কোলকাতা সহ সারা বাংলাদেশে ৬ খানা পাকা মঞ্চ ছিল। যার মধ্যে একটি ছিল লক্ষ্মীপুরে। তখনকার সময় বাণী রঙ্গালয়, মন্দির, যুগীহাটা, লঙ্গর থানা, টাউন হলে নাটক হতো। বিশিষ্ট অভিনেতা ছিলেন খ্যাতনামা আইনজীবি কুন্তলাল কৃষ্ণ মজুমদার, রমনী মোহন গুপ্ত, অশ্বিনী কুমার চৌধুরী, গৌরাঙ্গ পেমের নরেন্দ্র চক্রবর্তী (নরা ঠাকুর), বুদাদা (আদালতের সামনে চায়ের দোকানদার), আবদুল হাকিম উকিল, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, লামচরীর মজু মিয়া, তমিজ উদ্দিন ব্যাপারী বাড়ী মনু মিয়া, মিয়া বাড়ীর সুলতান মিয়া, শিশু শিল্পী ছিলেন ভূঞা বাড়ীর কোববাদ মিয়া ও মনা মুখার্জী (মজিবুল হক)। ১৯৪৭ খ্রি: ভারত বিভক্ত হয়ে গেলে গঠিত হলো পাকিস্তান ও ভারত। রক্ষণশীল পাকিস্থানে ধর্মীয় উন্মাদনায় গান বাজনা যাত্রা থিয়েটার বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন ওলামা হিন্দ নামের স্বার্থন্বেষী মৌলবাদী গোষ্ঠি জনগনকে ক্ষেপিয়ে তুলে। ভেঙ্গে ফেলা হল বাণী রাঙ্গালয়ের পাকা মঞ্চ, ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল মুসলিম ড্রামাটিক ক্লাব, বন্ধ হয়ে গেল পাবলিক লাইব্রেরী ও টাউন হলের কার্যক্রম নাটক, থিয়েটার, যাত্রা গান বাজনা ও সব ধরনের চিত্তবিনোদন। এ সময়ে লক্ষ্মীপুর শ্যাম সুন্দর জিউর আখড়ায় অনুষ্ঠিত ভারত বিখ্যাত যাত্রা পাটির আসরকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হল। এতে পুরোপুরি বিস্মৃত হয়ে পড়ে লক্ষ্মীপুরের সংস্কৃতিক অঙ্গন। এমতাবস্থায় সংস্কৃতিক বন্ধত্বের কালে কেউ কেউ যে চেষ্টা করেননি এ বন্ধাত্ব ঘোঁচাতে তা নয়, শত চেষ্টার পরেও তখন তা সম্ভব হয়ে উঠেনি। ১৯৫৪ খ্রি: মুসলীম লীগ হতে মনোনীত এম.এল.এ মরহুম হাকিম উকিলের সহযোগিতা নিয়ে তাঁর বাড়ীর দরজায় এক দল সংস্কৃতি কর্মী রাতারাতি মঞ্চ নির্মাণ পূর্বক পরেরদিন নিরাপদে নাটক মঞ্চস্থ করে। সাংস্কৃতিক বন্ধাত্বের পর এটাই লক্ষ্মীপুর বাজারে প্রথম নাটক। এ বন্ধাত্ব ঘোচনে অবদান রাখে গোলাম রহমান, তমিজউদ্দিন বেপারী বাড়ীর আজিজুর রহমান, লামচরীর আতিকুর রহমান, মোক্তার বাড়ীর আজহার মিয়া, ভুঞাবাড়ীর কোববাত মিয়া ও মনা মুখার্জী। ১৯৫৬ সালে জুবিলী দিঘীর পাড়ে মিঞা আবু তাহের ও রেজাউল হাকিমের নেতৃত্বে গড়ে উঠে সবুজ সংঘ। তাদের সহযোগিতা করেন গোলাম রহমান, শশী চক্রবর্তী, অসীম চক্রবতী, মতিলাল নাগ, লাবণ্য সেন গুপ্ত। উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেন আবদুল হাকিম উকিল ও কুন্তল কৃষ্ণ মজুমদার। এর পর বিশিষ্ট অভিনেতা রামেন্দু মজুমদার, গোলাম রহমান, হিমাদ্রি, মুখার্জী সহ কয়েকজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তির উদ্যোগে লক্ষ্মীপুর পাবলিক লাইব্রেরী ও টাউন হলকে সংস্কার করার জন্য ১৯৫৮ খ্রি: একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। সে কমিটির সাধারণ সম্পাদক হলেন রামেন্দু মুজমদার এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক হলেন গোলাম রহমান। তাদের উদ্যোগে ১৯৫৮ খ্রি: দুটি নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। তখন থেকে পুনরায় লক্ষ্মীপুর জেলায় সাংস্কৃতিক চর্চার প্রাণ পায় বলে ধরে নেয়া যায়। লক্ষ্মীপুর কলেজ ১৯৭৯-৭১ খ্রি: সালাউদ্দিন ভুঁঞার সম্পাদনায় পথের আলো নামে একটি কলেজ বার্ষিকী প্রকাশ করে। স্বাধীনতা যুদ্ধের কারণে এর সবার মাঝে বিলি করা সম্ভব হয়নি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এ দেশের সংস্কৃতি নতুন প্রাণ পায়। লক্ষ্মীপুর পাবলিক লাইব্রেরী ও টাউন হল কেন্দ্রিক নাটক, সংগীত, নৃত্যনাট্য বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেয়া হয়। লোকনাথ দাস, চৌধুরী খুরশিদ আলম, গোলাম রহমান, প্রদীপ কুমার পাল রবি, খলিলুর রহমান চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন, জগদীশ চন্দ্র সাহা পঞ্চু, ব্রজেন্দ্র কুমার নাথ, ব­্যাক বাবুল, লুৎফুল হায়দর ভুলু, সুভাষ দেবনাথ, সুবোধ দাস প্রমুখ এ কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় উদ্যোগী তরুন-যুবক সমাজ তৎকালীন থানা সদর সমূহে এবং প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলেও স্কুল বা ক্লাব ভিত্তিক সংস্কৃতি চর্চায় নিবেদিত ছিল। লক্ষ্মীপুর শহরে পর পর গড়ে উঠতে থাকে সাংস্কৃতিক সংগঠন। এদের মধ্যে প্রায় সব ক’টি উজ্জল আলোয় আলোকিত করে এ অঞ্চলকে অবশ্য কোন কোনটি দু-পাঁচ বছরের মধ্যে ধপ করে নিভে যায়। ১৯৭৪ খ্রিঃ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্য চর্চা কেন্দ্র ত্রিধারা, নেতৃত্ব দেন ইসমাইল জবিউল্যা, ইব্রাহীম খলিলুল­া, অধ্যাপক ননী-গোপাল ঘোষ, অধ্যাপক জেড এম ফারুকী, প্রদীপ কুমার পাল রবি, অধ্যাপক মোবাশ্বের আহমদ, আবুল মোবারক, ছিদ্দিক উল্যা কবির প্রমুখ। ১৯৭৬ সালে সুরালয় শিল্পী গোষ্ঠী। যদু গোপাল দাস, শামসুল করিম খোকন, মতিলাল নাগ, অলক কুমার কর, আবদুর রহিম এতে ভূমিকা রাখেন। এরপর ত্রিবেদী যার নেতৃত্ব দেন মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাকুল হায়দর। ১৯৭৯ সালে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন চক্রবাক প্রতিষ্ঠা করেন অধ্যাপক খলিলুর রহমান চৌধুরী। এছাড়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসাবে পৌরকল্যান পরিষদ গঠিত হয়। ’৭৯ খ্রিঃ তে মহকুমা এবং ’৮৪ খ্রিঃতে জেলা শিল্পকলা একাডেমী গঠন থেকে জাতীয় দিবস পালন উপলক্ষ্যে সংস্কৃতি চর্চা করে। ১৯৮৫ খ্রিঃ লক্ষ্মীপুর থিয়েটার প্রতিষ্ঠার পর থেকে লক্ষ্মীপুরের সংস্কৃতিতে নতুন জোয়ার শুরু হয়। এর পূর্বে প্রায় ১০ বছর সংস্কৃতির চরম বন্ধাত্বতা ছিল। লক্ষ্মীপুর থিয়েটার গঠনেও প্রাণ সঞ্চারে শামছুদ্দিন ফরহাদ (নোয়াখালী), শহিদ উল্যা খন্দাকার, অধ্যাপক মাইন উদ্দিন পাঠান, এডভোকেট শৈবাল সাহা, জাকির হোসেন ভূঁঞা আজাদ, সেলিম রেজা, মোরশেদ আনোয়ার, দিলীপ চৌধুরী, আবুল হাসেম, মোস্তফা ফারুক বাবুল, আমির হোসেন, মরহুম আলা উদ্দিন, আবুল কালাম আযাদ, জিয়াউর রহমান, মানজুমান আরা, ইসরাত জাহান ইয়াসমিন, নুরনবী কবির, অহিদুর রহমান প্রমুখ ভূমিকা রাখেন। লক্ষ্মীপুর থিয়েটার একমাত্র সংগঠন যা নিরবিছিন্ন ভাবে গত ২৫ বছর নাট্য চর্চা ও প্রশিক্ষন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ১৯৮৯ সালে লক্ষ্মীপুর থিয়েটার তার যোগ্যতা প্রদর্শন করে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সদস্যপদ লাভ করতে সমর্থ হয়। পরবর্তিতে জেলা সদরে নেতৃত্ব দেয়ার মত অনেক নেতৃত্ব সৃষ্টি করে লক্ষ্মীপুর থিয়েটার। যারা হলেন আঃ হোসেন আহাম্মদ, দিলীপ চৌধুরী (স্টার থিয়েটার), বাবর মাহমুদ (সংস্কৃতি সংসদ,২০০৭), মাহবুবুর রহমান (হাইফাই,১৯৯০), টিংকু মলি­ক (বিবর্তন,২০০৯), সিরাজুল ইসলাম ( অনির্বান, ২০০৮), রাফিয়া আম্মার রেশমা ও মাহতাব উদ্দিন আরজু (শতাব্দী ও গীতাঞ্জলী পরিষদ)। একই সময়কালে সদর ইউ এন ও জাফর আহমদ চৌধুরী, গণপুর্তের ইঞ্জিনিয়ার জিয়া উদ্দিন আহমেদের পৃষ্ঠপোষকতায় লক্ষ্মীপুর সাহিত্য সংসদ গঠন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন দিলীপ চৌধুরী, মাইন উদ্দিন পাঠান, সেলিম রেজা, মাহবুবুল বাসার প্রমুখ। এ সংগঠন থেকে নিয়মিত ‘‘প্রচ্ছদ’’ নামে একটি সংকলন প্রকাশ হতো। ১৯৮৪ খ্রিঃ মাইন উদ্দিন পাঠান, শংকর মজুমদার ও এডভোকেট আজগর হোসেন মাহমুদের নেতৃত্বে সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠান গঠিত হয় ‘‘গ্র্যাজুয়েটস ফোরাম’’। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ.ও.ম. সফিক উদ্যোগে উপজেলা কমপ্লেক্সে ১৯৮৬ খ্রি: চালু করেন উপজেলা সঙ্গীত প্রকল্প এবং গোলাম মোরশেদ প্রতিষ্ঠা করেন ফ্রেন্ডস নাট্য গোষ্ঠী। ১৯৮৭ সালে রেজাউল হাকিম ও মোরশেদ চৌধুরীর সহযোগীতায় মাহাবুবুল বাশারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা লাভ করে অনুরাগ শিল্পী গোষ্ঠী। ১৯৮৮ সালে এ্যানি চৌধুরী, আহম্মদ কবির ও নোভেল এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা লাভ করে রিফটার্স ব্যান্ড শিল্পী গোষ্ঠী এবং দিলীপ চৌধুরী ও আবুল হোসেন মাষ্টারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা লাভ করে স্টার থিয়েটার, লক্ষ্মীপুর। ১৯৯৩ খ্রি: বেলায়েত হোসেন রিপনের উদ্যোগে হাই ফাই কৌতুক শিল্পী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং যদুগোপাল দাস প্রতিষ্ঠা করেন জেলা সঙ্গীত একাডেমী। এছাড়াও ১৯৯৪ খ্রি: জেলা শিশু একাড়েমী লক্ষ্মীপুর গঠিত হয়। পরের বছর মো: শাকিলের নেতৃত্বে গঠিত হয় প্রতিবাদী নাট্য গোষ্ঠী এবং আবদুল্লাহ আল মামুন রিপনের উদ্যোগে ক্রন্দসী শিল্পী গোষ্ঠী এবং ১৯৯৮ সালে অহিদ উদ্দিন রতনের উদ্যোগে শতাব্দি শিল্পী গোষ্ঠি এবং মোঃ রমজানের উদ্যোগে গ্রাম থিয়েটার। ১৯৯৯ সালে মহিন উদ্দিন পাঠান উদ্যোগে আবৃত্তি সংসদ গঠিত হয়। গাজী গিয়াস রতনের উদ্যোগে লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদ এবং ফরিদা ইয়াছমিন লিকার উদ্যোগে লহরী শিল্পী গোষ্ঠী। ১৯৯৯ সালে অলক কুমার করের উদ্যোগে নজরুল সঙ্গীত একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০০ সালে আবদুল কুদ্দুসের উদ্যোগে রূপকথা শিল্পী গোষ্ঠী। ২০০১ সালে ‘‘অনন্ত কবিতা পরিষদ। ২০০২ সালে নাহিদের উদ্যোগে নিক্কন আবৃত্তি সংসদ। ২০০৩ সালে ড্যানী চৌধুরী শাকিক এর উদ্যোগে বেলায়েত হোসেন রিপন, নিজাম উদ্দিন বাবর এর সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠা লাভ করে শিল্পী ফোরাম লক্ষ্মীপুর। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে মোহনা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। ২০০৭ সালের বাবর মাহমুদ ও সাইফুল ইসলাম তপনের উদ্যোগে লক্ষ্মীপুর সাংস্কৃতিক সংসদ। ২০০৮ সালে সাইফুল মনির বেলাল ও সায়েদ হোসেন নিক্সনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা লাভ করে উদয়ন শিল্পী গোষ্ঠী। যে সব কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের দেশ জুড়ে জেলায় শাখা রয়েছে তার তালিকাঃ জেলা শিল্পকলা একাডেমী, জেলা শিশু একাডেমী, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), বঙ্গবন্ধু শিল্পী গোষ্ঠী, উদীচি শিল্পী গোষ্ঠী, খেলাঘর আসর, নন্দীনি সাহিত্য পাঠ চক্র, মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক কমান্ড, নজরুল একাডেমী, জাতীয় কবিতা পরিষদ, কমিউনিটি পুলিশিং সাংস্কৃতিক কমিটি। এ জেলায় গর্ভধারণ করে আছেন অসংখ্য প্রথিতযশা ব্যক্তিগণ যারা দেশেবিদেশে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সুনামের সাথে অবস্থান করেছিলেন এবং করছেন, তারা হলেন, অভিনেতা মরহুম মোজাম্মেল হোসেন বাচ্চু, অভিনেত্রী মরহুম রোজী আফসারী, প্রখ্যাত লেখক ও কলামিষ্ট মরহুম ছানা উল্যা নুরী, অভিনেতা রামেন্দু মজুমদার, অভিনেত্রী দিলারা জামান, অভিনেতা এটিএম শামসু জামান, নায়ক মাহফুজ আহমেদ, নাট্যকার, অভিনেতা ও ডকুমেন্টারী ফ্লিম মেকার বাবুল বিশ্বাস, উপস্থাপক ইব্রাহিম ফাতেমী, পরিচালক ইসমাইল হোসেন, পরিচালক অরন্য আনোয়ার, অভিনেত্রী ও মডেল কন্যা তারিন, অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ, মডেল কন্যা তৃষা, চিত্র নায়িকা দোয়েল, চিত্র নায়ক সুব্রত, শিশু মডেল দিঘি, মডেল অভিনেতা হিমেল, মডেল ও অভিনেত্রী হুমায়রা হিমু, কণ্ঠ শিল্পী মাহবুব হোসেন মোহন ও ক্লোজ আপ ওয়ান শীর্ষ দশ তারকার একজন লক্ষ্মীপুরের ইদ্রিছ আনোয়ার পরান। নিচে কয়েক জন এর ছবি দেওয়া হল: — with স্বেচ্ছাসেবক দল রামগঞ্জ থানা, Ramgoti Kamalnagar, Kbm Ics Ramgonj and 47 others.

Monday, 3 June 2013

আসসালামুয়ালিকুম…
কিছু লোক জিন এর বাস্তবতা অস্বীকার করার চেষ্টা করেছে। জিনের সম্বন্ধে কোরআনে একটি সম্পুর্ণ সূরা,সূরা আল্-জিন (৭২নং সূরা) অবর্তীর্ণ হয়েছে।
ক্রিয়াপদ জান্না,ইয়াজুন্নুঃ – যে গুলির অর্থ অন্তরালে রাখা,আত্মগোপন করা অথবা ছদ্মবেশে পরানো ইত্যাদি হতে প্রাপ্ত জিন শব্দের আক্ষরিক অর্থের উপর নির্ভর করে তারা দাবি করে যে জিন হচ্ছে আসলে “চতুর বিদেশী”। অন্যেরা এমনও দাবী করে যে,যাদের মগজে কোন মন নেই এবং স্বভাবে অগ্নি প্রকৃতির তারাই জিন। প্রকৃতপক্ষে জিন আল্লাহর অপর একটি সৃষ্টি যারা এই পৃথিবীতে মানুষের সঙ্গে সহ-অবস্থান করে। আল্লাহ মানবজাতি সৃষ্টির পূর্বে জিন সৃষ্টি করেন এবং তিনি মানুষ সৃষ্টির উপাদান হতে ভিন্নতর উপদানের সমষ্টি দিয়ে জিন সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহ বলেনঃ
 “আমি তো মানুষ সৃষ্টি করিয়াছি ছাঁচে-ঢালা শুষ্ক ঠনঠনে মৃত্তিকা হইতে। এবং ইহার পূর্বে সৃষ্টি করিয়াছি জিন অত্যুষ্ণ বায়ুর উত্তাপ হইতে।” [সূরা আল্-হিজর ১৫:২৬,২৭]
তাদের জিন নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা মানব জাতির চোখের অন্তরালে রয়েছে। ইবলিশ (শয়তান) জিন জগতের,যদিও আল্লাহ যখন আদমকে সিজদা করার হুকুম দিয়েছিলেন তখন সে ফেরেশতাদের মধ্যে অবস্থান করছিল। যখন সে সিজদাহ করতে অসম্মত হল এবং তাকে তার অবাধ্যতার কারণ জিজ্ঞেস করা হল। যে সম্পর্কে আল্লাহ বলেনঃ
 ”সে বললঃ আমি তার চেয়ে উত্তম আপনি আমাকে আগুনের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা।” [ সূরা সাদ ৩৮:৭৬ ]
আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা দেন যে রাসূল (সঃ) বলেছেন,
 “ফেরেশতাদের আলো হতে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং জিনদের ধুম্রবিহীনঅগ্নি হতে।” [মুসলিম কর্তৃক সংগৃহীত Sahih Muslim, enlgish trans, vol. 4 p.1540 , no. 7134]
আল্লাহ আরও বলেনঃ
“এবং স্মরণ কর,আমি যখন ফেরেশতাগণকে বলিয়াছিলাম আদমের প্রতি সিজদা কর,তখন সকলেই সিজদা করিল ইবলীস ব্যতীত,সে জিনদিগের একজন।” [সূরা আল্-কাহ্ফ ১৮:৫০]
সুতরাং তাকে প্রত্যাখ্যাত ফেরেশতা অথবা ফেরেশতাদের একজন মনে করা ভুল হবে।
জিনদের অস্তিত্বের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণতঃ তাদেরকে
তিন শ্রেণীর ভাগ করা যেতে পারে ।
রাসুল (সঃ) বলেন,
 “তিন রকম জিন আছেঃ এক রকম যারা সারাক্ষণ আকাশে উড়ে,
অন্য আর এক রকম যারা সাপ এবং কুকুর হিসাবে বিদ্যমান এবং পৃথিবীর উপর বসবাসকারী
আর এক রকম যারা একস্থানে বাস করে অথবা উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়।” [আত্ তাবারী এবং আল্-হাকিম কর্তৃক সংগৃহিত]
বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে জিনদের আবার
দুই শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়ঃ
মুসলিম (বিশ্বাসীগণ) এবং কাফির (অবিশ্বাসীগণ)।
আল্লাহ সূরা আল-জিন এ বিশ্বাসী জিনদের সম্বন্ধে বলেনঃ
“বল,আমার প্রতি প্রেরিত হইয়াছে যে,জিনদিগের একটি দল মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করিয়াছে এবং বলিয়াছে,আমারাতো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবন করিয়াছি। যাহা সঠিক পথ -নির্দেশ করে;ফলে আমরা ইহাতে বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি। আমরা কখনও আমাদিগের প্রতিপালকের কোন শরীক স্থির করিব না এবং নিশ্চয়ই সমুচ্চ আমাদিগের প্রতিপালকের মর্যাদা, তিনি গ্রহণ করেন নাই কোন পত্মী এবং না কোন সন্তান। এবং যে আমাদিগের মধ্যকার নির্বোধরা আল্লাহর সম্বন্ধে অতি অবাস্তব উক্তি করিত।” [ সুরা আল্-জিন ৭২:১-৪ ]
“আমাদিগের কতক আত্মসমর্পণকারী এবং কতক সীমালংঘনকারী;যাহারা আত্মসমর্পণ করে তাহারা সুচিন্তিতভাবে সত্য পথ বাছিয়ে লয়। অপরপক্ষে,সীমালংঘনকারী তো জাহান্নামেরই ইন্ধন।” [সুরা আল্-জিন ৭২:১৪-১৫]
জিনদের মধ্যে অবিশ্বাসীদের বিভিন্ন নামে উল্লেখ করা হয়ঃ
ইফরিত্, শয়তান, ক্বারিন, অপদেবতা, অশুভ আত্মা, আত্মা, ভুতপ্রেত ইত্যাদি। তারা বিভিন্নভাবে মানুষকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করে। যারাই তাদের কথা শুনে এবং তাদের জন্য কাজ করে তাদেরকেই মানব শয়তান বলে উল্লেখ করা হয়।
আল্লাহ বলেছেনঃ
“এইরূপে মানব ও জিনের মধ্যে শয়তানদিগকে প্রত্যেক নবীর শত্রু করিয়াছি।” [সুরা-আল্-আন্’আম ৬:১১২]
প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে স্বতন্ত্র একজন করে জিন রয়েছে যাকে ক্বারিন (সঙ্গী) বলা হয়। এটা মানুষের এই জীবনের পরীক্ষার অংশ বিশেষ। জিনটি তাকে সর্বদা অবমাননাকর কামনা-বাসনায় উৎসাহিত করে এবং সার্বক্ষণিকভাবে তাকে ন্যায়-নিষ্ঠা হতে অন্য দিকে সরিয়ে নেবার চেষ্টা করে।
রাসুল (সঃ) এই সম্পর্ককে এভাবে বর্ণনা দিয়েছেন,
 “তোমাদের প্রত্যেককে জিনদের মধ্য হতে একজন সঙ্গী দেয়া হয়েছে।” সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, “এমনকি আপনাকেও ইয়া আল্লাহর রাসুল (সঃ)? তিনি বলেনঃ এখন সে আমাকে শুধু ভাল করতে বলে।” [মুসলিম কর্তৃক সংগৃহীত Sahih MusliM, enlgishtrans, vol. 4 p.1540 , no. 7134]
“সুলায়মানের সম্মুখে সমবেত করা হইল তাহার বাহিনীকে-জিন,মানুষ ও বিহংগকুলকে এবং উহাদিগকে বিন্যস্ত করা হইল বিভিন্ন ব্যূহে।” [সুরা আন-নামল ২৭:১৭]
কিন্তু অন্য কাউকে এই ক্ষমতা প্রদান করা হয় নাই। অন্য কাউকে জিন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেয়া হয়নি এবং কেউ পারেও না। রাসুল (সঃ) বলেছেন,
 “যথার্থই গত রাতে জিনদের মধ্যে হতে একজন ইফরিত (একটি বলিষ্ঠ অথবা খারাপ জিন)” আমার সালাত ভেঙ্গে দেবার জন্য থু থু নিক্ষেপ করেছিল। যাহোক আল্লাহ তাকে পরাভূত করতে আমাকে সাহায্য করেন এবং যাতে তোমরা সকালে তাকে দেখতে পারো সে জন্য তাকে আমি মসজিদের একটি স্তম্ভের সঙ্গে বেঁধে রাখতে চেয়েছিলাম। অতঃপর আমার ভ্রাতা সোলাইমানের দোয়া মনে পড়লঃ “হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা কর এবং আমাকে দান কর এমন এক রাজ্য যাহার অধিকারী আমি ছাড়া কেহ না হয়।” [সুরা সাদ ৩৮:৩৫]
মানুষ জিনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম নয় কারণ এই বিশেষ অলৌকিক ক্ষমতা শুধু পয়গম্বর সোলায়মানকে দেয়া হয়েছিল।প্রকৃতপক্ষে, আছর অথবা ঘটনাক্রম ছাড়া জিনদের সাথে যোগাযোগ হওয়া বেশীর ভাগ সময়ই নিষিদ্ধ বা ধর্মদ্রোহী কাজের মাধ্যমেই হয়। [আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপস্ এর Ibn taymeeyah`s Essay on the Jinn:: রিয়াদ তৌহিদ প্রকাশনী,১৯৮৯,পৃ.২১]
এভাবে তলব করে আনা দুষ্ট জিন তাদের সঙ্গীদের গুনাহ করতে এবং স্রষ্টাকে অবিশ্বাস করতে সাহায্য করতে পারে। তাদের লক্ষ্য হল স্রষ্টা ছাড়া অথবা স্রষ্টার পাশাপাশি অন্যকে উপাসনা করার মত গুরুতর গুনাহ করতে যত বেশী জনকে পারা যায় তত জনকে আকৃষ্ট করে। একবার গণকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং চুক্তি হয়ে গেলে, জিন ভবিষ্যতের সামান্য কিছ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা জানাতে পারে।
রাসুল (সাঃ) বর্ণনা দিয়েছেন জিনরা কিভাবে ভবিষ্যত সম্বন্ধে সংবাদ সংগ্রহ করে। তিনি বর্ণনা দেন যে,

জিনরা প্রথম আসমানের উপর অংশ পর্যন্ত ভ্রমণ করত এবং ভবিষ্যতের উপর কিছু তথ্যাদি যা ফিরিশতারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত তা শুনতে সক্ষম হত। তারপর তারা পৃথিবীতে ফিরে এসে তাদের পরিচিত মানুষের কাছে ঐ তথ্যগুলি পরিবেশন করত।আল্-বুখারী এবং মুসলিম কতৃর্ ক সংগৃহীত। [ Sahih Muslim, Englishtrans, vol.4, p.1210, no, 5538]
মুহাম্মদ (সাঃ) এর নবুওত প্রাপ্তির পূর্ব পর্যন্ত এই ধরণের বহু ঘটনা সংঘটিত হত। এবং গণকরা তাদের তথ্য প্রদানে নির্ভূল ছিল। তারা রাজকীয় আদালতে আসন লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল এবং প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।এমনকি পৃথিবীর কিছু অঞ্চলে তাদের পুজাও করা হত।
রাসুল (সাঃ) কর্তৃক ধর্ম প্রচার শুরু করার পর হতে অবস্থার পরিবর্তন হয়। আল্লাহ ফিরিশতাদের দিয়ে আসমানের নীচের এলাকা সতর্কতার সঙ্গে পাহাড়া দেবার ব্যবস্থা করলেন। তারপর হতে বেশীরভাগ জিনদের উল্কা এবং ধাবমান নক্ষত্ররাজি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হত। আল্লাহ এই বিস্ময়কর ঘটনা কোরআনের ভাষায় বর্ণনা করেছ্নেঃ
 “এবং আমরা চাহিয়াছিলাম আকাশের তথ্য সংগ্রহ করিতে কিন্তু আমরা দেখিতে পাইলাম কঠোর প্রহরী ও উল্কা পিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ ;আর পূর্বে আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাটিতে সংবাদ শুনিবার জন্য বসিতাম কিন্ত এখন কেহ সংবাদ শুনিতে চাহিলে সে তাহার উপর নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত জলন্ত উল্কা পিন্ডের সম্মুখীন হয়।” [সূরা আল-জ্বিন ৭২:৮-৯]
আল্লাহ আরও বলেনঃ
 “প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তান হইতে আমি উহাকে রক্ষা করিয়া থাকি; আর কেহ চুরি করিয়া সংবাদ শুনিতে চাহিলে উহার পশ্চাদ্ধাবন করে প্রদীপ্ত শিখা।” [সূরা আল হিজর ১৫:১৭-১৮]
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন,
 “যখন রাসুল (সাঃ) এবং তাঁর একদল সাহাবা উকাধ বাজারের দিকে রওয়ানা হলেন, তখন শয়তানদের ঐশী খবরাখবর শোনায় বাধা প্রদান করা হল। উল্কাপিন্ড তাদের উপর ছেড়ে দেয়া হল। ফলে তারা তাদের লোকদের কাছে ফিরে এল। যখন তাদের লোকরা জিজ্ঞাসা করল কি হয়েছিল, তারা তাদের জানালো। কেউ কেউ পরামর্শ দিল যে নিশ্চয়ই কিছু ঘটেছে, কাজেই তারা কারণ খুজে বের করার জন্য পৃথিবীর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। তাদের কয়েকজন রাসুল (সাঃ) এবং তাঁর সাহাবাগণের সালাত রত অবস্থা দেখতে পেল এবং তারা তাদের কোরআন পড়া শুনলো। তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করল যে নিশ্চয় এটাই তাদের শোনায় বাধা প্রদান করেছিল। যখন তারা তাদের লোকদের মধ্যে ফিরে গেল তখন তারা বলল, “আমরা তো এক বিস্ময়কর কোরআন শ্রবণ করিয়াছি। যাহা সঠিক পথ নির্দেশ করে, ফলে আমরা ইহাতে বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি। আমরা কখনও আমাদিগের প্রতিপালকের কোন শরীক স্থির করিব না।” [সুরা আল জিন ৭২:১-২] [ আল্-বুখারী, মুসলিম, আত্ তিরমিজী এবং আহমদ কর্তৃক সংগৃহীত।Sahih Al-Bukhari, Arabic-English, vol.6, pp.415-6.no.443 and Sahih Muslim, English trans, vol.1, pp.243-44, no, 908]
এইভাবে রাসূল (সাঃ) কর্তৃক ধর্ম প্রচারের পূর্বে জিনরা যেভাবে সহজে ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে খবরাখবর সংগ্রহ করত তা আর আর পারেনি। ঐ কারণে তারা এখন তাদের খবরাখবরের সঙ্গে অনেক মিথ্যা মিশ্রিত করে।
রাসুল (সাঃ) বলেন,
 “জাদুকর অথবা গনকের মুখে না পৌছান পর্যন্ত তারা (জিনরা) খবরাখবর নীচে ফেরত পাঠাতে থাকবে। কখনও কখনও তারা খবর চালান করার আগেই একটি উল্কা পিন্ড তাদের আঘাত প্রাপ্ত করার পূর্বে পাঠাতে পারলে এর সঙ্গে তারা একশটা মিথ্যা যোগ করবে। [আল্-বুখারী, মুসলিম এবং আত্ তিরমিজী কর্তৃক সংগৃহীত। Sahih Al-Bukhari, Arabic-English, vol.8, p.150 , no.232]
আয়শা (রাঃ) তখন উল্লেখ করলেন যে গণকরা কখনও কখনও যা বলে সত্য হয়।
রাসুল (সঃ) বলেন,
 ‘‘ওতে সত্যতার কিছু অংশ যা জিনরা চুরি করে এবং তার বন্ধুর কাছে বলে কিন্তু সে এর সাথে একশটি মিথ্যা যোগ করে। ”আয়েশা বর্ণনা দেন যে তিনি আল্লাহর রাসূলের (সঃ) কাছে গণকদের সম্বন্ধে জিজ্ঞসা করলে তিনি উত্তর দেন যে ওরা কিছু না। [আল্-বুখারী এবং মুসলিম কর্তৃক সংগৃহীত। Sahih Al-Bukhari, Arabic-English, vol.1, p.439.no.657 and Sahih Muslim, English trans, vol.4, p.1209, no, 5535]
একদিন উমর ইবনে আল খাত্তাব যখন বসে ছিলেন তখন একটি সুদর্শণ লোক তার পাশ দিয়ে চলে গেলে তিনি বললেন, আমার যদি ভূল না হয় লোকটি এখনও প্রাক ইসলামি ধর্ম অনুসরণ করছে অথবা বোধ হয় সে তাদের একজন গণক। তিনি লোকটি কে তার সামনে আনতে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তার অনুমান সম্পর্কে জিজ্ঞাস করলেন। লোকটি উত্তর দিল, আমি আজকের মত আর কোন দিন দেখিনি যেদিন মুসলিম এই ধরণের অভিযোগের সম্মূখীন হয়েছে। উমর (রাঃ) বললেন,অবশ্যই আমাকে তামার অবহিত করা উচিত। লোকটি তখন বলল, অজ্ঞতার যুগে আমি তাদের গণক ছিলাম। ঐ কথা শুনে উমর জিজ্ঞাসা করলেন,তোমার মহিলা জিন তোমাকে সব চেয়ে বিস্ময়কর কি বলেছে। লোকটি তখন বলল,একদিন আমি যখন বাজারে ছিলাম,সে (মহিলা জিন) উদ্বিগ্ন হয়ে আমার কাছে এসেছিল এবং বলেছিল মর্যাদাহানি হবার পর তুমি কি জিনদের হতাশাগ্রস্থ অবস্থায় দেখনি? তুমি কি দেখনি তাদেরকে (জিনদেরকে) মাদী উট ও তাতে আরোহণকারীদের অনুসরণ করতে? উমর বাধাদান পূর্বক বললেন,এটা সত্য।
[আল্-বুখারী কর্তৃক সংগৃহীত। Sahih Al-Bukhari, Arabic-English, vol.5, p.131-2. no.206]
জিনরা তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী মানুষকে আপতঃ ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে অবহিত করতে সক্ষম।
উদাহরণস্বরূপ,যখন কেউ একজন গণকের কাছে আসে সে আসার আগে কি কি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল তা গণকের জিন আগত লোকটির ক্বারিনের (প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে নিয়োজিত জিন) কাছ থেকে জিন জেনে নেয়। সুতরাং গণক লোকটিকে বলতে সক্ষম হয় যে সে এটা করবে অথবা অমুক অমুক জায়গায় যাবে। এই প্রক্রিয়ায় একজন সতিকার গণক অপরিচিত লোকের অতীত পরির্পূণ ভাবে জানতে সক্ষম হয়। সে একজন অচেনা ব্যক্তির পিতামার নাম, কোথায় জন্ম গ্রহণ করেছিল এবং তার ছেলে বেলার আচারণ ইত্যাদি সম্বন্ধে বলেতে সক্ষম হয়। অতীত সম্বন্ধে পরিপূর্ণ বর্ণনা দেবার ক্ষমতা জিন এর সঙ্গে মুহুর্তের মধ্যে বহু দুরত্ব অতিক্রম করতে এবং গোপন বিষয় হারানো জিনিস, অদেখা ঘটনা বলি সম্বন্ধে বহু তথ্যাদি সংগ্রহ করতেও সক্ষম।
কোরআনে বর্ণিত পয়গম্বর সুলায়মান এবং সিবার রাণী বিলকিসের গল্পে মধ্যে এই ক্ষমতার সত্যতা পাওয়া যায়।

যখন রাণী বিলকিসের গল্পে এলেন,তিনি একটি জিনকে রাণীর দেশ থেকে তার সিংহাসন নিয়ে আসতে বললেন। “এক শক্তিশালী জিন বলল,আপনি আপনার স্থান হইতে উঠিবার পূর্বে আমি উহা আনিয়া দিব এবং এই ব্যাপারে আমি অবশ্যই ক্ষমতাবান বিশ্বস্ত। [সূরা আন নামল, ২৭:৩৯]
কৃতজ্ঞতা–কুরআনেরআলো

Wednesday, 22 May 2013

না পড়লে খুব মিস করবেন সত্যি বলছি.....একটিবা ­ র পড়ে দেখুন দয়া করে এরই নাম ভালবাসা ।
একটি ভালোবাসার গল্প, যে গল্প আমাদের কে কতটা আবেগ আপ্লুত করবে জানি না, তবে১৩০ কোটি চীনাকে কাঁদিয়েছিল, কেঁদেছিল পৃথিবী জুড়ে অনেক প্রেমিক প্রেমিকাই।।
ভালোবাসার এই গল্পটি খুব বেশি বড় নয়.........
২৬ বছরের চীনা যুবক ঝুয়ং হুগুই ভালবাসতেন ২১ বছরের হু ঝাও কে, নিজের জীবনের চেয়েও বেশী ভালবাতেন একে অপরকে। গত ফেব্রুয়ারী ৪ তারিখে তাদেরমধ্যে বিবাহ বন্ধন হওয়ার কথা থাকলেও, এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে জানুয়ারীর ২৮ তারিখ দুর্বৃত্তদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে মারা যান প্রেমিকা বধু হু ঝাও। প্রেমিকার এই আকশ্মিক বিয়োগান্তকে মেনে নিতে পারেনি প্রেমিক বর হুগুই। সিদ্ধান্ত নিলেন এই মৃত প্রেমিকাকেই বিয়ে করবেন তিনি। যথা সময়ে বিয়ে সম্পন্ন হলো, হাজার হাজার চীনাবাসী এসেছিলেন এই বিয়ের অনুষ্ঠানে। ঐদিন ছিল কনে হুঝাও এর দাফন করারও দিন। কনের সাজে মৃতহু কে একনজর দেখতে এসে বর ঝুয়ং হুগুইএর সাথে হাওমাওকরে কেঁদে উঠেন আমন্ত্রিত অতিথিরাও। বরের দিকে তাকিয়ে অনেকেই হয়ে যান বাকরুদ্ধ । পুরু চীন ভেসে যায় চোখের জলে।
বিয়ের পর বর জানান, "কারো চোখে মহৎ কিংবা উদাহরণ হতে নয়, ভালোবাসার প্রতি দায়বদ্ধতা আর সম্মান জানাতে আমার এ বিয়ে।"
ভালবাসা সত্যিই মহৎ।। ভালবাসা কখনো মরে না।। সত্যি তুমি উদাহরণ সৃষ্টি করতে না চাইলেও উদাহরণ হয়েগেলে লক্ষ-কোটি প্রেমিক- প্রেমিকার।।

Friday, 17 May 2013

আওয়ামীলীগের চার বছরের উন্নয়ন মূলক কিছু ফিরিস্তি .........
১. বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা হত্যা।
২. জিয়া বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন।
৩. নিজেরগুলোসহ আওয়ামী নেতা-কর্মীদের খুন,ধর্ষন ডাকাতি,
লুটপাটের হাজার হাজার মামলা প্রত্যাহার।
৪. বেগম খালেদা জিয়াকে তার তিন যুগের ক্যান্টনমেন্টের
বাড়ি থেকে ঈদের পূর্বদিন অমানবিকভাবে উচ্ছেদ।
৫. ভারতের সঙ্গে অধীনতামূলক মিত্রতা চুক্তি সই।ননৃৃািাাঋমৃপ
৬. গোপন চুক্তির মাধ্যমে অথবা কোনো চুক্তি ব্যতীত
ভারতকে রাষ্ট্রবিনাশী করিডোর প্রদান।
৭. টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের বিরোধিতার পরিবর্তে সরবে তার
পক্ষে ওকালতি।
৮. দেশের জনগণকে তিস্তা পানি চুক্তির আশা দিয়ে ভারতের
ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ।
৯. ভারতকে বাংলাদেশের জমি একতরফা প্রদান।
১০. বিচারবিভাগসহ প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নগ্ন
দলীয়করণ।
১১. শেয়ারবাজার থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীর লাখো-
কোটি টাকা ডাকাতি।
১২. পঞ্চম সংশোধনী বাতিল।
১৩. সংবিধান থেকে আল্লাহ্র প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস
উঠিয়ে দেয়া।
১৪. কথিত ইসলামী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার
নামে সারা দেশে ইসলাম বিরোধী আবহ তৈরি।
১৫. ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীদের জোর করে বাঙালি বানিয়ে পিতার
মতো পুনরায় পার্বত্য অঞ্চলকে অশান্ত করা।
১৬. তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল।
১৭. বিরোধী মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভয়াবহ
নির্যাতন।
১৮. মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
১৯. সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ।
২০. সরকারে সর্বগ্রাসী দুর্নীতির ভয়াবহ বিস্তার।
২১. ড. ইউনূসসহ সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকে অপমান ও
নিগ্রহ।
২২. পারিবারিক জমিদারির মতো করে রাষ্ট্রকে ব্যবহার।
২৩. জাতীয় সংসদকে অকার্যকর, একদলীয় করে তোলা।
২৪. বিরোধী দলীয় চিফ হুইপকে প্রকাশ্য রাজপথে অর্ধউলঙ্গ
করে লাঠিপেটা এবং পুলিশের
গাড়ি থেকে লাথি মেরে ফেলে প্রাণনাশের চেষ্টা করা।
২৫. নাটোরের বাবু, নরসিংদীর লোকমান, ঢাকার চৌধুরী আলমের
মতো জনপ্রতিনিধিদের সরকারি পেটোয়া বাহিনী কর্তৃক
প্রকাশ্যে হত্যা অথবা গুম-খুন।
২৬. দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় বৃদ্ধি।
২৭. আইন-শৃঙ্খলার ভয়াবহ অবনতি।
২৮. দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ধস সৃষ্টি।
২৯. দেউলিয়া পররাষ্ট্র নীতির
মাধ্যমে বাংলাদেশকে ইসলামী বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করা।
৩০. আমাদের গর্ব ও ঐতিহ্যের রাজধানী ঢাকা ভাগ।
৩১. ডেস্টেনি/ইউনিপেটুইউ কেলেংকারী।
৩২. হলমার্ক কেলেংকারী।
৩৩. বিসমিল্লাহ গ্রুপ কেলেংকারী।
৩৪. পদ্মা সেতু কেলেংকারী।
৩৫. রেলওয়ের কালো বিড়াল কেলেংকারী।
৩৬. বিশ্বজিৎ হত্যা।
৩৭. একদিনে ৬০ জন মানুষ হত্যার রেকর্ড।
৩৮. রামুতে বৌদ্ধবিহারে আগুন কেলেংকারী।
৩৯. ইলিয়াস আলী সহ বিরোধী দলের অনেক নেতা গুম।
৪০. এমসি কলেজে আগুন।
৪১. বহদ্দার হাট ফ্লাইওভার ট্র্যাজেডি।
৪২. আশুলিয়ায় তাজরিন ফ্যাশন ট্রাজেডি।
৪৩. সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার
না হওয়া এবং গণমাধ্যমের উপর অব্যহত নিপীড়ন।
৪৪. ব্যাংকিং খাত সহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসকরন।
৪৫. শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল কেলেংকারী।
৪৬. পাঠ্যপুস্তকে ধর্ম অবমাননামূলক বিষয় অর্ন্তভুক্ত করা

Sunday, 12 May 2013


Mohammed Shurab Hossain Sumon
সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

স্বাধীনতাযুদ্ধ


১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পুরো সময় জুড়ে লক্ষ্মীপুর জেলায় র্ববর পাকিস্থানি হানাদার ও এদেশিয় রাজাকার বাহিনীর হত্যা, লুট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষত বিক্ষত ছিল। অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের অপ্রতিরোধ্য গেরিলা যুদ্ধ তাদের জন্য আতংকের ছিল। ৪ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে লক্ষ্মীপুর হানাদার ও রাজাকার মুক্ত হয়। লক্ষ্মীপুর শহরের মাদাম ব্রিজ, বাগবাড়ি গণকবর, দালাল বাজার গালর্স হাই স্কুল, মডেল হাই স্কুল , মদিন উল্যা চৌধুরী (বটু চৌধুরী) বাড়ি, পিয়ারাপুর বাজার, মান্দারী মসজিদ ও প্রতাপগঞ্জ হাই স্কুল, রায়পুর আলীয়া মাদ্রাসা, এল.এম. হাই স্কুল ও ডাকাতিয়া নদীর ঘাট, রামগতির চর কলাকোপা মাদ্রাসা, রামগতি ওয়াপদা বিল্ডিং, আলেকজান্ডার সিড গোডাউন, হাজিরহাট মসজিদ, করইতলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন গোডাউন, রামগঞ্জ গোডাউন এলাকা, রামগঞ্জ সরকারী হাই স্কুল, জিন্নাহ হল (জিয়া মাকের্ট) ও ডাক বাংলো হানাদার ও রাজাকার ক্যাপ এবঙ গণহত্যার স্থান। এদিকে লক্ষ্মীপুর বেগমগঞ্জ সড়কে প্রতাপগঞ্জ হাই স্কুল, মান্দারী মসজিদ, মাদাম ঘাট ও বাগবাড়ি, লক্ষ্মীপুর-রামগঞ্জ সড়কে দালাল বাজার, কাজীর দিঘীর পাড়, কাফিলাতলী, পানপাড়া, মিরগঞ্জ, পদ্মা বাজার, মঠের পুল এবং রামগঞ্জের হাই স্কুল সড়ক ও আঙ্গারপাড়া, লক্ষ্মীপুর- রামগতি সড়কে চর কলাকোপার দক্ষিণে জমিদার হাট সংলগ্ণ উত্তরে, করুণানগর, হাজির হাট আলেকজান্ডার এবং রামগতি থাণা ও ওয়াপদা বিল্ডিঙ এলাকা, রায়পুর আলীয়া মাদ্রাসা ও এল.এল হাই স্কুল এলাকায় অধিকাংশ যুদ্ধা সঙগঠিত হয়। এসময় হাজার হাজার নিরীহ মানুষ এবঙ ৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধা শীহদ হন। এছাড়া মুক্তিবাহিনীর হাতে শত শত হানাদার ও রাজাকার নিহত হয়।



১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ্মীপুর জেলার শহদি মুক্তিযোদ্ধা তালিকাঃ

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা

০১. রবীন্দ্র কুমার সাহা (ভাবানীগঞ্জ)
০২. মনসুর আহমেদ (ছাবিলপুর)
০৩. আলী আজম (নন্দনপুর)
০৪. লোকমান মিয়া ( জামিরতলা)
০৫. জয়নাল আবেদিন (চররুহিতা)
০৬. মোহাম্মদ হোসেন (ফতেহপুর)
০৭.আবদুল বাকির (নরসিহপুর)
০৮. জহিরুল ইসলাম (সৈয়দপুর)
০৯. আহাম্মদ উল্লাহ (উড়িষার কান্দি)
১০. আবদুল মতিন (বাঙ্গাখাঁ)
১১. মাজহারুল মনির সবুজ (আলীপুর)
১২. চাঁদ মিয়া (আলীপুর)
১৩. নায়েক আবুল হাশেম (সমাসপুর)
১৪. মো: মোস্তফঅ মিয়া (জামিরতলা)
১৫. নুর মোহাম্মদ (বড়লিয়া)
১৬. রুহুল আমিন (আঠিয়াতলি)
১৭. আবুল খায়ের (বাঞ্চানগর)
১৮. আবদুল হাই (রোকনপুর)
১৯. মমিন উল্যা (রোকনপুর)
২০. আবু ছায়েদ (সোনাপুর)
২১. আব্দুল হালিম বাসু (বাঙ্গাখাঁ)
২২. এস এম কামাল (পালপাড়া)
২৩. মিরাজ উল্ল্যা (উড়িষার কান্দি)



রায়পুর উপজেলা











০১. মোঃ আতিক উলাহ (কেরোয়া)
০২. মোঃ মোস্তফা (উত্তর কেরোয়া)
০৩. ইসমাইল মিয়া (উত্তর সাগরদি)
০৪. আবদুল্লাহ (কেরোয়া)
০৫. আবুল খায়ের ভুতা (চর মোহনা)
০৬. সাহাদুলা মেম্বার (চর পাংগাসিয়া)

০৭. আবুল কালাম (উত্তর সাইচা)



রামগতি



০১. মোস্তাফিজুর রহমান (তোরাবগঞ্জ)

০২. বেনু মজুমদার (চর জাঙ্গালিয়া)

০৩. আলী মোহাম্মদ (তোরাবগঞ্জ)

রামগঞ্জ

























০১. শহীদ নজরুল ইসলাম (মাঝিরগাঁ)

০২. আবদুল রশিদ (কাঞ্চনপুর)





























বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর লক্ষ্মীপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের তালিকা:



ক্রমিক নং

নাম

পদবী

ফোন/মোবাইল নং

ই-মেইল নং



আনোয়ারুল হক

ইউনিয়ট কমান্ডার

০১৮২৬৩৪৫৩৮১



০১.

কাজল কান্তি দাস

ডেপুটি ইউনিট কমান্ডার

০১৭১৮০৯৯৪৮



০২.

মোঃ নুরুজ্জামান

ডেপুটি ইউনিট কমান্ডা

০১৭১২২৭৭১৯৩



০৩.

মোঃ সিরাজ উল্যা

সহকারী কমান্ডার (সাংগঠনিক)





০৪.

মোঃ মোস্তফা কামাল

সহকারী কমান্ডার (তথ্য ও প্রচার)





০৫.

জি এম মহসীন রেজা

সহকারী কমান্ডার (যুদ্ধাহত ও পুনর্বাসন)

০১৭১০৬৮৪৯২৭



০৬.

মোঃ গিয়াস উদ্দিন

সহকারী কমান্ডার (অর্থ)

০১৭১১০২৬৫৪৮



০৭.

মোঃ আমির হোসেন

সহকারী কমান্ডার (সাহিত্য ও সংস্কৃতি)

০১৮১৩২১১৫৫৬০



০৮.

ল্যাঃ নায়েক মুজবর হক

সহকারী কমান্ডার (ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ)

০১৮১৪৩১৭২০৫



০৯.

মোঃ আবুল হোসেন খাঁন

সহকারী কমান্ডার (ক্রীড়া)

০১৯১১৯৮৭৭৩১



১০.

ল্যাঃ নায়েক আমির হোসেন

সহকারী কমান্ডার (শ্রম ও জনশক্তি)

০১৮১২৬০৭৭৩৯



১১.

আলী আহম্মেদ চৌধুরী

সহকারী কমান্ডার (দপ্তর)

০১৭২৪১৮৫২০৫



১২.

তোফাজ্জল হোসেন

সহকারী কমান্ডার(প্রকল্প ও সমবায়)

০১৯১৬৮২০২২২



১৩.

মোঃ নাজিম উদ্দিন

সহকারী কমান্ডার (শিক্ষা, পাঠাগার ও মিলনায়তন)

০১৭৫৩২৪২৩৪৩



১৪.

আবুল বাশার পাটোয়ারী

কার্যকরী সদস্য

০১৭২৭৫৫৯৪৬৪



১৫.

সুবেদার (অবঃ) মোঃ আঃ মতিন পাটোয়ারী

কার্যকরী সদস্য

০১৭১৬৮৮৯৫০৭



১৬.

মোঃ সুজায়েত উল্যা

কার্যকরী সদস্য